| বঙ্গাব্দ

ইরানের শীর্ষ উপদেষ্টার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শেষ সময় ঘনিয়ে আসছে | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-03-2026 ইং
  • 505001 বার পঠিত
ইরানের শীর্ষ উপদেষ্টার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শেষ সময় ঘনিয়ে আসছে | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: ইরানের শীর্ষ উপদেষ্টার হুঁশিয়ার

চোখের বদলে মাথা নেব': যুক্তরাষ্ট্রকে মোহসেন রেজায়ির চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য আগ্রাসনের মুখে ইরানের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি এক নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘শেষ সময় ঘনিয়ে আসছে’। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরান এবার কেবল পাল্টা আঘাত নয়, বরং ‘চোখের বদলে মাথা’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে পঙ্গু করে দেবে।

'উপসাগরে মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেব'

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে দেওয়া এক বিশেষ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় সামান্যতম আঘাত হানে, তবে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ডুবিয়ে দেওয়া হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংকট থেকে বাঁচানোর সময় খুব বেশি নেই।" তার মতে, ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ গঠনের নেশায় ইসরায়েল মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এক উদভ্রান্ত ও অবৈধ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ট্রাম্পের '৫ দিনের নাটক' ও তেহরানের প্রত্যাখ্যান

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে ‘ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা শুরু হয়েছে এবং এর প্রেক্ষিতেই তিনি ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন। তবে ইরান এই দাবিকে সরাসরি ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি; বরং তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতেই ট্রাম্প এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন।

শর্তহীন যুদ্ধবিরতি নয়

রেজায়ি পরিষ্কার করেছেন যে, কেবল মৌখিক আশ্বাসে সংঘাত থামবে না। ইরানের ওপর থেকে সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে আর কখনো হামলা না করার আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তেহরান তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখবে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, গত চার দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের শত্রুতা করে আসছে, যার প্রমাণ অতীতে সাদ্দাম হোসেনকে দেওয়া তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন।


১৯৫০ থেকে ২০২৬: ইরান-মার্কিন বৈরিতার বিবর্তন

পারস্য উপসাগরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্ষমতার লড়াইয়ের ইতিহাস ১৯৫০-এর দশকে মোসাদ্দেক সরকারের পতনের সময় থেকেই শুরু। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে এই সম্পর্ক স্থায়ী শত্রুতায় রূপ নেয়। ১৯৮০-র দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা আজও তেহরানের স্মৃতিতে অমলিন।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশের’ শান্তিকামী মানুষ যেমন সব ধরণের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, তেমনি ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপট বিশ্বকে এক ভয়াবহ পারমাণবিক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ১৯৫০ সালে যা ছিল স্রেফ গোয়েন্দা তৎপরতা, ২০২৬ সালে তা রূপ নিয়েছে হাইপারসনিক মিসাইল ও ড্রোন যুদ্ধের এক মরণপণ লড়াইয়ে। ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই হামলার পর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।


সূত্র: ১. আইআরএনএ (IRNA) ও আল জাজিরা ইন্টারন্যাশনাল (২৫ মার্চ ২০২৬)।

২. সিএনএন (CNN) ও রয়টার্স: ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস ব্রিফিং।

৩. তেহরান টাইমস: স্পিকার গালিবাফের বিশেষ সাক্ষাৎকার।

৪. জাতীয় আর্কাইভস: ইরান-মার্কিন যুদ্ধের ইতিহাস ও ভূ-রাজনৈতিক বিবর্তন (১৯৫০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency